১১-৩ : আরও যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তন কর, তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট কালের জন্য উত্তম জীবন উপভোগ করিতে দিবেন এবং তিনি প্রত্যেক গুণীজনকে তাহার প্রাপ্য মর্যাদা দান করিবেন। যদি তোমরা মুখ ফিরাইয়া নাও তবে আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি মহাদিবসের শাস্তির।
১১-৫ : সাবধান! নিশ্চয়ই উহারা তাঁহার নিকট গোপন রাখিবার জন্য উহাদের বক্ষ দ্বিভাঁজ করে। সাবধান! উহারা যখন নিজেদেরকে বস্ত্রে আচ্ছাদিত করে তখন উহারা যাহা গোপন করে ও প্রকাশ করে, তিনি তাহা জানেন। অন্তরে যাহা আছে, নিশ্চয়ই তিনি তাহা সবিশেষ অবহিত।
১১-৭ : আর তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, তখন তাঁহার আরশ ছিল পানির উপর, তোমাদের মধ্যে কে কর্মে শ্রেষ্ঠ তাহা পরীক্ষা করিবার জন্য। তুমি যদি বল, ‘মৃত্যুর পর তোমরা অবশ্যই উত্থিত হইবে,’ কাফিররা নিশ্চয়ই বলিবে, ‘ইহা তো সুস্পষ্ট জাদু।’
১১-৮ : নির্দিষ্ট কালের জন্য আমি যদি উহাদের হইতে শাস্তি স্থগিত রাখি তবে উহারা নিশ্চয় বলিবে, ‘কিসে উহা নিবারণ করিতেছে ?’ সাবধান! যে দিন উহাদের নিকট ইহা আসিবে সেদিন উহাদের নিকট হইতে উহা নিবৃত্ত করা হইবে না এবং যাহা লইয়া উহারা ঠাট্টা - বিদ্রূপ করে তাহা উহাদেরকে পরিবেষ্টন করিবে।
১১-১০ : আর যদি দুঃখ - দৈন্য স্পর্শ করিবার পর আমি তাহাকে সুখ - সম্পদ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্যই বলিবে, ‘আমার বিপদ - আপদ কাটিয়া গিয়াছে’, আর সে হয় উৎফুল্ল ও অহংকারী।
১১-১২ : তবে কি তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহার কিছু তুমি বর্জন করিবে এবং ইহাতে তোমার মন সংকুচিত হইবে এইজন্য যে, তাহারা বলে, ‘তাহার নিকট ধনভাণ্ডার প্রেরিত হয় না কেন অথবা তাহার সঙ্গে ফিরিশতা আসে না কেন ?’ তুমি তো কেবল সতর্ককারী এবং আল্লাহ্ সর্ববিষয়ের কর্মবিধায়ক।
১১-১৪ : যদি তাহারা তোমাদের আহ্বানে সাড়া না দেয় তবে জানিয়া রাখ, ইহা তো আল্লাহ্র ইল্ম মুতাবিক অবতীর্ণ এবং তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তাহা হইলে তোমরা আত্মসমর্পণকারী হইবে কি ?
১১-১৭ : তাহারা কি উহাদের সমতুল্য যাহারা প্রতিষ্ঠিত উহাদের প্রতিপালক - প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণের উপর, যাহার অনুসরণ করে তাঁহার প্রেরিত সাক্ষী এবং যাহার পূর্বে ছিল মূসার কিতাব আদর্শ ও অনুগ্রহস্বরূপ ? উহারাই ইহাতে বিশ্বাসী। অন্যান্য দলের যাহারা ইহাকে অস্বীকার করে, দোযখই তাহাদের প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং তুমি ইহাতে সন্দিগ্ধ হইও না। ইহা তো তোমার প্রতিপালক - প্রেরিত সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে না।
১১-১৮ : যাহারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে তাহাদের অপেক্ষা অধিক জালিম আর কে ? উহাদেরকে উপস্থিত করা হইবে উহাদের প্রতিপালকের সম্মুখে এবং সাক্ষিগণ বলিবে, ‘ইহারাই ইহাদের প্রতিপালকের বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল।’ সাবধান ! আল্লাহ্র লা‘নত জালিমদের উপর,
১১-২০ : উহারা পৃথিবীতে আল্লাহ্কে অপারগ করিতে পারিত না এবং আল্লাহ্ ব্যতীত উহাদের অপর কোন অভিভাবক ছিল না; উহাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হইবে; উহাদের শুনিবার সামর্থ্যও ছিল না এবং উহারা দেখিতও না।
১১-২৭ : তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানেরা, যাহারা ছিল কাফির তাহারা বলিল, ‘আমরা তোমাকে তো আমাদের মত মানুষ ব্যতীত কিছু দেখিতেছি না; আমরা তো দেখিতেছি, তোমার অনুসরণ করিতেছে তাহারাই, যাহারা আমাদের মধ্যে বাহ্য দৃষ্টিতেই অধম এবং আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখিতেছি না; বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।’
১১-২৮ : সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার প্রতিপালক প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁহার নিজ অনুগ্রহ হইতে দান করিয়া থাকেন, আর ইহা তোমাদের নিকট গোপন রাখা হইয়াছে; আমি কি এই বিষয়ে তোমাদেরকে বাধ্য করিতে পারি, যখন তোমরা ইহা অপছন্দকর ?
১১-২৯ : ‘হে আমার সম্প্রদায় ! ইহার পরিবর্তে আমি তোমাদের নিকট ধনসম্পদ যাচ্ঞা করি না। আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহ্রই নিকট এবং মু’মিনদেরকে তাড়াইয়া দেওয়া আমার কাজ নয়; তাহারা নিশ্চিতভাবে তাহাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎ লাভ করিবে। কিন্তু আমি তো দেখিতেছি তোমরা এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।
১১-৩১ : ‘আমি তোমাদেরকে বলি না, ‘আমার নিকট আল্লাহ্র ধনভাণ্ডার আছে,’ আর না অদৃশ্য সম্বন্ধে আমি অবগত এবং আমি ইহাও বলি না যে, আমি ফিরিশ্তা। তোমাদের দৃষ্টিতে যাহারা হেয় তাহাদের সম্বন্ধে আমি বলি না যে, আল্লাহ্ তাহাদেরকে কখনই মঙ্গল দান করিবেন না; তাহাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা আল্লাহ্ সম্যক অবগত। তাহা হইলে আমি অবশ্যই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’
১১-৩৪ : ‘আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতে চাহিলেও আমার উপদেশ তোমাদের উপকারে আসিবে না, যদি আল্লাহ্ তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করিতে চান। তিনিই তোমাদের প্রতিপালক এবং তাঁহারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন।’
১১-৩৫ : তাহারা কি বলে যে, সে ইহা রচনা করিয়াছে ? বল, ‘আমি যদি ইহা রচনা করিয়া থাকি, তবে আমিই আমার অপরাধের জন্য দায়ী হইব। তোমরা যে অপরাধ করিতেছ তাহা হইতে আমি দায়মুক্ত।’
১১-৩৬ : সূরা নূহের প্রতি প্রত্যাদেশ হইয়াছিল, ‘যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহারা ব্যতীত তোমার সম্প্রদায়ের অন্য কেহ কখনও ঈমান আনিবে না। সুতরাং তাহারা যাহা করে তজ্জন্য তুমি দুঃখিত হইও না।
১১-৩৭ : ‘তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার প্রত্যাদেশ অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ কর এবং যাহারা সীমালংঘন করিয়াছে তাহাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলিও না ; তাহারা তো নিমজ্জিত হইবে।’
১১-৩৮ : সে নৌকা নির্মাণ করিতে লাগিল এবং যখনই তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানেরা তাহার নিকট দিয়া যাইত, তাহাকে উপহাস করিত ; সে বলিত, ‘তোমরা যদি আমাকে উপহাস কর তবে আমরাও তোমাদেরকে উপহাস করিব, যেমন তোমরা উপহাস করিতেছ;
১১-৪০ : অবশেষে যখন আমার আদেশ আসিল এবং উনুন উথলিয়া উঠিল; আমি বলিলাম, ‘ইহাতে উঠাইয়া নাও প্রত্যেক শ্রেণীর যুগলের দুইটি, যাহাদের বিরুদ্ধে পূর্ব - সিদ্ধান্ত হইয়াছে তাহারা ব্যতীত তোমার পরিবার - পরিজনকে এবং যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদেরকে।’ তাহার সঙ্গে ঈমান আনিয়াছিল অল্প কয়েকজন।
১১-৪২ : পর্বত - প্রমাণ তরঙ্গের মধ্যে ইহা তাহাদেরকে লইয়া বহিয়া চলিল ; সূরা নূহ্ তাহার পুত্রকে - যে পৃথক ছিল, আহ্বান করিয়া বলিল, ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সঙ্গে আরোহণ কর এবং কাফিরদের সঙ্গী হইও না।’
১১-৪৩ : সে বলিল, ‘আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় লইব যাহা আমাকে প্লাবন হইতে রক্ষা করিবে।’ সে বলিল, ‘আজ আল্লাহ্র হুকুম হইতে রক্ষা করিবার কেহ নাই, তবে যাহাকে আল্লাহ্ দয়া করিবেন সে ব্যতীত।’ ইহার পর তরঙ্গ উহাদেরকে বিচ্ছিন্ন করিয়া দিল এবং সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হইল।
১১-৪৪ : ইহার পর বলা হইল, ‘হে পৃথিবী! তুমি তোমার পানি গ্রাস করিয়া নাও এবং হে আকাশ! ক্ষান্ত হও।’ ইহার পর বন্যা প্রশমিত হইল এবং কার্য সমাপ্ত হইল, নৌকা জুদী পর্বতের উপর স্থির হইল এবং বলা হইল, জালিম সম্প্রদায় ধ্বংস হউক।
১১-৪৫ : সূরা নূহ্ তাহার প্রতিপালককে সম্বোধন করিয়া বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত এবং আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য; আর আপনি তো বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক।’
১১-৪৬ : তিনি বলিলেন, ‘হে সূরা নূহ্! সে তো তোমার পরিবারভুক্ত নয়। সে অবশ্যই অসৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নাই সে বিষয়ে আমাকে অনুরোধ করিও না। আমি তোমাকে উপদেশ দিতেছি, তুমি যেন অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হও।’
১১-৪৭ : সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নাই, সে বিষয়ে যাহাতে আপনাকে অনুরোধ না করি, এইজন্য আমি আপনার শরণ লইতেছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমাকে দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’
১১-৪৮ : বলা হইল, ‘হে সূরা নূহ্ ! অবতরণ কর আমার পক্ষ হইতে শান্তি ও কল্যাণসহ এবং তোমার প্রতি ও যে সমস্ত সম্প্রদায় তোমার সঙ্গে আছে তাহাদের প্রতি ; অপর সম্প্রদায়সমূহকে আমি জীবন উপভোগ করিতে দিব, পরে আমা হইতে মর্মন্তুদ শাস্তি উহাদেরকে স্পর্শ করিবে;
১১-৪৯ : ‘এই সমস্ত অদৃশ্যলোকের সংবাদ আমি তোমাকে ওহী দ্বারা অবহিত করিতেছি, যাহা ইহার পূর্বে তুমি জানিতে না এবং তোমার সম্প্রদায়ও জানিত না। সুতরাং ধৈর্য ধারণ কর, শুভ পরিণাম মুত্তাকীদেরই জন্য।’
১১-৫০ : আদ জাতির নিকট উহাদের ভ্রাতা হূদকে পাঠাইয়াছিলাম, সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তোমরা তো কেবল মিথ্যা রচনাকারী।
১১-৫১ : ‘হে আমার সম্প্রদায় ! আমি ইহার পরিবর্তে তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক যাচ্ঞা করি না। আমার পারিশ্রমিক আছে তাঁহারই নিকট, যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন। তোমরা কি তবুও অনুধাবন করিবে না?
১১-৫২ : ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁহার দিকেই ফিরিয়া আস। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বারি বর্ষণ করিবেন। তিনি তোমাদেরকে আরও শক্তি দিয়া তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করিবেন এবং তোমরা অপরাধী হইয়া মুখ ফিরাইয়া লইও না।’
১১-৫৩ : উহারা বলিল, ‘হে হূদ! তুমি আমাদের নিকট কোন স্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর নাই, তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করিবার নহি এবং আমরা তোমাতে বিশ্বাসী নহি।
১১-৫৬ : ‘আমি নির্ভর করি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্র উপর; এমন কোন জীবজন্তু নাই, যে তাঁহার পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়; নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আছেন সরল পথে।
১১-৫৭ : ‘অতঃপর তোমরা মুখ ফিরাইয়া লইলেও আমি যাহাসহ তোমাদের নিকট প্রেরিত হইয়াছি, আমি তো তাহা তোমাদের নিকট পৌঁছাইয়া দিয়াছি; এবং আমার প্রতিপালক তোমাদের হইতে ভিন্ন কোন সম্প্রদায়কে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করিবেন এবং তোমরা তাঁহার কোন ক্ষতি সাধন করিতে পারিবে না। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সমস্ত কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।’
১১-৫৮ : এবং যখন আমার নির্দেশ আসিল তখন আমি হূদ ও তাহার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল তাহাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করিলাম এবং রক্ষা করিলাম তাহাদেরকে কঠিন শাস্তি হইতে।
১১-৬১ : আমি সামূদ জাতির নিকট তাহাদের ভ্রাতা সালিহ্কে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! ‘তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তিনি তোমাদেরকে মৃত্তিকা হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং উহাতেই তিনি তোমাদেরকে বসবাস করাইয়াছেন। সুতরাং তোমরা তাঁহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর আর তাঁহার দিকেই প্রত্যাবর্তন কর। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক নিকটে, তিনি আহ্বানে সাড়া দেন।’
১১-৬৩ : সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ, আমি যদি আমার প্রতিপালক - প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁহার নিজ অনুগ্রহ দান করিয়া থাকেন, তবে আল্লাহ্র শাস্তি হইতে আমাকে কে রক্ষা করিবে, আমি যদি তাঁহার অবাধ্যতা করি? সুতরাং তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বাড়াইয়া দিতেছ।
১১-৬৬ : যখন আমার নির্দেশ আসিল তখন আমি সালিহ্ ও তাঁহার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল তাহাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করিলাম এবং রক্ষা করিলাম সেই দিনের লাঞ্ছনা হইতে। তোমার প্রতিপালক তো মহাশক্তিমান, পরাক্রমশালী।
১১-৭০ : সে যখন দেখিল তাহাদের হস্ত উহার দিকে প্রসারিত হইতেছে না, তখন তাহাদেরকে অবাঞ্ছিত মনে করিল এবং তাহাদের সম্বন্ধে তাহার মনে ভীতি সঞ্চার হইল। তাহারা বলিল, ‘ভয় করিও না, আমরা তো লূতের সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হইয়াছি।’
১১-৭৩ : তাহারা বলিল, ‘আল্লাহ্র কাজে তুমি বিস্ময় বোধ করিতেছ? হে পরিবারবর্গ! তোমাদের প্রতি রহিয়াছে আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও কল্যাণ। তিনি তো প্রশংসার্হ ও সম্মানার্হ।’
১১-৭৭ : এবং যখন আমার প্রেরিত ফিরিশ্তাগণ লূতের নিকট আসিল তখন তাহাদের আগমনে সে বিষণ্ণ হইল এবং নিজেকে তাহাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করিল এবং বলিল, ‘ইহা নিদারুণ দিন!’
১১-৭৮ : তাহার সম্প্রদায় তাহার নিকট উদ্ভ্রান্ত হইয়া ছুটিয়া আসিল এবং পূর্ব হইতে তাহারা কুকর্মে লিপ্ত ছিল। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! ইহারা আমার কন্যা, তোমাদের জন্য ইহারা পবিত্র। সুতরাং আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে হেয় করিও না। তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নাই?’
১১-৮১ : তাহারা বলিল, ‘হে লূত! নিশ্চয়ই আমরা তোমার প্রতিপালক - প্রেরিত ফিরিশতা। উহারা কখনই তোমার নিকট পৌঁছিতে পারিবে না। সুতরাং তুমি রাত্রির কোন এক সময়ে তোমার পরিবারবর্গসহ বাহির হইয়া পড় এবং তোমাদের মধ্যে কেহ পিছন দিকে তাকাইবে না, তোমার স্ত্রী ব্যতীত। উহাদের যাহা ঘটিবে তাহারও তাহাই ঘটিবে। নিশ্চয়ই প্রভাত উহাদের জন্য নির্ধারিত কাল। প্রভাত কি নিকটবর্তী নয়?
১১-৮৪ : মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাহাদের ভ্রাতা শু‘আয়বকে আমি পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই, মাপে ও ওজনে কম করিও না; আমি তোমাদেরকে সমৃদ্ধিশালী দেখিতেছি, কিন্তু আমি তোমাদের জন্য আশঙ্কা করিতেছি এক সর্বগ্রাসী দিবসের শাস্তি।
১১-৮৫ : ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে মাপিও ও ওজন করিও, লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়া বেড়াইও না।
১১-৮৭ : উহারা বলিল, ‘হে শু‘আয়ব! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা যাহার ‘ইবাদত করিত আমাদেরকে তাহা বর্জন করিতে হইবে অথবা আমরা আমাদের ধন - সম্পদ সম্পর্কে যাহা করি তাহাও? তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু, ভাল মানুষ!’
১১-৮৮ : সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, আমি যদি আমার প্রতিপালক - প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকি এবং তিনি যদি তাঁহার নিকট হইতে আমাকে উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করিয়া থাকেন তবে কী করিয়া আমি আমার কর্তব্য হইতে বিরত থাকিব ! আমি তোমাদেরকে যাহা নিষেধ করি আমি নিজে তাহা করিতে ইচ্ছা করি না। আমি তো আমার সাধ্যমত সংস্কারই করিতে চাই। আমার কার্যসাধন তো আল্লাহ্রই সাহায্যে ; আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁহারই অভিমুখী।
১১-৮৯ : ‘হে আমার সম্প্রদায় ! আমার সঙ্গে বিরোধ যেন কিছুতেই তোমাদেরকে এমন অপরাধ না করায় যাহাতে তোমাদের উপর তাহার অনুরূপ বিপদ আপতিত হইবে যাহা আপতিত হইয়াছিল সূরা নূহের সম্প্রদায়ের উপর অথবা হূদের সম্প্রদায়ের উপর কিংবা সালিহের সম্প্রদায়ের উপর; আর লূতের সম্প্রদায় তো তোমাদের হইতে দূরে নয়।
১১-৯১ : উহারা বলিল, ‘হে শু‘আয়ব! তুমি যাহা বল তাহার অনেক কথা আমরা বুঝি না এবং আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বলই দেখিতেছি। তোমার স্বজনবর্গ না থাকিলে আমরা তোমাকে প্রস্তর নিক্ষেপ করিয়া মারিয়া ফেলিতাম; আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও।’
১১-৯২ : সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমাদের নিকট কি আমার স্বজনবর্গ আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী? তোমরা তাঁহাকে সম্পূর্ণ পশ্চাতে ফেলিয়া রাখিয়াছ। তোমরা যাহা কর আমার প্রতিপালক অবশ্যই তাহা পরিবেষ্টন করিয়া আছেন।
১১-৯৩ : ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা স্ব স্ব অবস্থায় কাজ করিতে থাক, আমিও আমার কাজ করিতেছি। তোমরা শীঘ্রই জানিতে পারিবে কাহার উপর আসিবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এবং কে মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।’
১১-৯৪ : যখন আমার নির্দেশ আসিল তখন আমি শু‘আয়ব ও তাহার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল তাহাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করিয়াছিলাম। অতঃপর যাহারা সীমালংঘন করিয়াছিল মহানাদ তাহাদেরকে আঘাত করিল, ফলে উহারা নিজ নিজ গৃহে নতজানু অবস্থায় পড়িয়া রহিল,
১১-১০১ : আমি উহাদের প্রতি জুলুম করি নাই কিন্তু উহারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছিল। যখন তোমার প্রতিপালকের বিধান আসিল তখন আল্লাহ্ ব্যতীত যে ইলাহসমূহের তাহারা ‘ইবাদত করিত তাহারা উহাদের কোন কাজে আসিল না। তাহারা ধ্বংস ব্যতীত উহাদের অন্য কিছু বৃদ্ধি করিল না।
১১-১০৩ : যে আখিরাতের শাস্তিকে ভয় করে ইহাতে তো তাহার জন্য নিদর্শন আছে। ইহা সেই দিন, যেদিন সমস্ত মানুষকে একত্র করা হইবে; ইহা সেই দিন যেদিন সকলকে উপস্থিত করা হইবে;
১১-১০৭ : সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে যত দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকিবে যদি না তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন ; নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাহাই করেন যাহা তিনি ইচ্ছা করেন।
১১-১০৮ : পক্ষান্তরে, যাহারা ভাগ্যবান তাহারা থাকিবে জান্নাতে, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে, যত দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকিবে, যদি না তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন; ইহা এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।
১১-১০৯ : সুতরাং উহারা যাহাদের ‘ইবাদত করে তাহাদের সম্বন্ধে সংশয়ে থাকিও না, পূর্বে উহাদের পিতৃপুরুষেরা যাহাদের ‘ইবাদত করিত উহারা তাহাদেরই ‘ইবাদত করে। অবশ্যই আমি উহাদেরকে উহাদের প্রাপ্য পুরাপুরি দিব - কিছুমাত্র কম করিব না।
১১-১১৩ : যাহারা সীমালংঘন করিয়াছে তোমরা তাহাদের প্রতি ঝুঁকিয়া পড়িও না; পড়িলে অগ্নি তোমাদেরকে স্পর্শ করিবে। এই অবস্থায় আল্লাহ্ ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক থাকিবে না এবং তোমাদের সাহায্য করা হইবে না।
১১-১১৪ : তুমি সালাত কায়েম কর দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। সৎকর্ম অবশ্যই অসৎকর্ম মিটাইয়া দেয়। যাহারা উপদেশ গ্রহণ করে, ইহা তাহাদের জন্য এক উপদেশ।
১১-১১৬ : তোমাদের পূর্বযুগে আমি যাহাদেরকে রক্ষা করিয়াছিলাম তাহাদের মধ্যে অল্প কতক ব্যতীত সজ্জন ছিল না, যাহারা পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাইতে নিষেধ করিত। সীমালংঘনকারীরা যাহাতে সুখ - স্বাচ্ছন্দ্য পাইত তাহারই অনুসরণ করিত এবং উহারা ছিল অপরাধী।
১১-১১৯ : তবে উহারা নয়, যাহাদেরকে তোমার প্রতিপালক দয়া করেন এবং তিনি উহাদেরকে এইজন্যই সৃষ্টি করিয়াছেন। ‘আমি আল জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করিবই’, তোমার প্রতিপালকের এই কথা পূর্ণ হইবেই।
১১-১২০ : রাসূলদের ঐ সকল বৃত্তান্ত আমি তোমার নিকট বর্ণনা করিতেছি, যদ্দ্বারা আমি তোমার চিত্তকে দৃঢ় করি, ইহার মাধ্যমে তোমার নিকট আসিয়াছে সত্য এবং মু’মিনদের জন্য আসিয়াছে উপদেশ ও সাবধানবাণী।
১১-১২৩ : আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ্রই এবং তাঁহারই নিকট সমস্ত কিছু প্রত্যানীত হইবে। সুতরাং তুমি তাঁহার ‘ইবাদত কর এবং তাঁহার উপর নির্ভর কর। তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক অনবহিত নন।