২৯-৩ : আমি তো ইহাদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করিয়াছিলাম ; আল্লাহ্ অবশ্যই প্রকাশ করিয়া দিবেন কাহারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই প্রকাশ করিয়া দিবেন কাহারা মিথ্যাবাদী।
২৯-৭ : এবং যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আমি নিশ্চয়ই তাহাদের হইতে তাহাদের মন্দ কর্মগুলি মিটাইয়া দিব এবং আমি অবশ্যই তাহাদেরকে প্রতিদান দিব, তাহারা যে উত্তম কর্ম করিত তাহার।
২৯-৮ : আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়াছি তাহার পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করিতে। তবে উহারা যদি তোমার উপর বল প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরীক করিতে যাহার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নাই, তুমি তাহাদেরকে মানিও না। আমারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদেরকে জানাইয়া দিব তোমরা কী করিতেছিলে।
২৯-১০ : মানুষের মধ্যে কতক বলে, ‘আমরা আল্লাহে বিশ্বাস করি, কিন্তু আল্লাহ্র পথে যখন উহারা নিগৃহীত হয়, তখন উহারা মানুষের পীড়নকে আল্লাহ্র শাস্তির মত গণ্য করে এবং তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে কোন সাহায্য আসিলে উহারা বলিতে থাকে, ‘আমরা তো তোমাদের তো তোমাদের সঙ্গেই ছিলাম।’ বিশ্ববাসীর অন্তঃকরণে যাহা আছে, আল্লাহ্ কি তাহা সম্যক অবগত নহেন ?’
২৯-১৩ : উহারা নিজেদের ভার বহন করিবে এবং নিজেদের বোঝার সঙ্গে আরও কিছু বোঝা ; আর উহারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে সে সম্পর্কে কিয়ামত দিবসে অবশ্যই উহাদেরকে প্রশ্ন করা হইবে।
২৯-১৪ : আমি তো সূরা নূহ্কে তাহার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলাম। সে উহাদের মধ্যে অবস্থান করিয়াছিল পঞ্চাশ কম হাজার বৎসর। অতঃপর প্লাবন উহাদেরকে গ্রাস করে ; কারণ উহারা ছিল সীমালংঘনকারী।
২৯-২০ : বল, ‘তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং অনুধাবন কর, কিভাবে তিনি সৃষ্টি আরম্ভ করিয়াছেন! অতঃপর আল্লাহ্ সৃষ্টি করিবেন পরবর্তী সৃষ্টি। আল্লাহ্ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
২৯-২৪ : উত্তরে ইব্রাহীমের সম্প্রদায় শুধু এই বলিল, ‘ইহাকে হত্যা কর অথবা অগ্নিদগ্ধ কর।’ কিন্তু আল্লাহ্ তাহাকে অগ্নি হইতে রক্ষা করিলেন। ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য।
২৯-২৭ : আমি ইব্রাহীমকে দান করিলাম ইসহাক ও ইয়া‘কূব এবং তাহার বংশধরদের জন্য স্থির করিলাম নবুওয়াত ও কিতাব এবং আমি তাহাকে দুনিয়ায় পুরস্কৃত করিয়াছিলাম ; আখিরাতেও সে নিশ্চয়ই সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম হইবে।
২৯-৩৩ : এবং যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ লূতের নিকট আসিল, তখন তাহাদের জন্য সে বিষণ্ন হইয়া পড়িল এবং নিজেকে তাহাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করিল। উহারা বলিল, ‘ভয় করিও না, দুঃখ করিও না ; আমরা তোমাকে ও তোমার পরিজনবর্গকে রক্ষা করিব, তোমার স্ত্রী ব্যতীত; সে তো পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ;
২৯-৩৬ : আমি মাদ্ইয়ানবাসীদের প্রতি তাহাদের ভ্রাতা শু‘আয়বকে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদত কর, শেষ দিবসকে ভয় কর এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাইও না।’
২৯-৩৮ : এবং আমি ‘আদ ও সামূদকে ধ্বংস করিয়াছিলাম ; উহাদের বাড়িঘরই তোমাদের জন্য ইহার সুস্পষ্ট প্রমাণ। শয়তান উহাদের কাজকে উহাদের দৃষ্টিতে শোভন করিয়াছিল এবং উহাদেরকে সৎপথ অবলম্বনে বাধা দিয়াছিল, যদিও উহারা ছিল বিচক্ষণ।
২৯-৩৯ : এবং আমি সংহার করিয়াছিলাম কারূন, ফির‘আওন ও হামানকে। মূসা উহাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিয়াছিল ; তখন তাহারা দেশে দম্ভ করিত; কিন্তু উহারা আমার শাস্তি এড়াইতে পারে নাই।
২৯-৪০ : উহাদের প্রত্যেককেই আমি তাহার অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়াছিলাম : উহাদের কাহারও প্রতি প্রেরণ করিয়াছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড ঝটিকা, উহাদের কাহাকেও আঘাত করিয়াছিল মহানাদ, কাহাকেও আমি প্রোথিত করিয়াছিলাম ভূগর্ভে এবং কাহাকেও করিয়াছিলাম নিমজ্জিত। আল্লাহ্ তাহাদের প্রতি কোন জুলুম করেন নাই ; তাহারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছিল।
২৯-৪১ : যাহারা আল্লাহ্র পরিবর্তে অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তাহাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সার ন্যায়, যে নিজের জন্য ঘর বানায় এবং ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরই তো দুর্বলতম, যদি উহারা জানিত।
২৯-৪৬ : তোমরা উত্তম পন্থা ব্যতীত কিতাবীদের সঙ্গে বিতর্ক করিবে না, তবে তাহাদের সঙ্গে করিতে পার, যাহারা উহাদের মধ্যে সীমালংঘনকারী। এবং বল, ‘আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে, তাহাতে আমরা বিশ্বাস করি এবং আমাদের ইলাহ্ ও তোমাদের ইলাহ্ তো একই এবং আমরা তাঁহারই প্রতি আত্মসর্মপণকারী।’
২৯-৪৭ : এইভাবেই আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি এবং যাহাদেরকে আমি কিতাব দিয়াছিলাম তাহারা ইহাতে বিশ্বাস করে। আর ইহাদেরও কেহ কেহ ইহাতে বিশ্বাস করে। কেহ অস্বীকার করে না আমার নিদর্শনাবলী কাফির ব্যতীত।
২৯-৫১ : ইহা কি উহাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি, যাহা উহাদের নিকট পাঠ করা হয়? ইহাতে অবশ্যই অনুগ্রহ ও উপদেশ রহিয়াছে সেই কওমের জন্য যাহারা ঈমান আনে।
২৯-৫২ : বল, ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা আছে তাহা তিনি অবগত এবং যাহারা অসত্যে বিশ্বাস করে ও আল্লাহ্কে অস্বীকার করে তাহারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।’
২৯-৫৩ : উহারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করিতে বলে। যদি নির্ধারিত কাল না থাকিত তবে শাস্তি তাহাদের উপর অবশ্যই আসিত। নিশ্চয়ই উহাদের উপর শাস্তি আসিবে আকস্মিকভাবে, উহাদের অজ্ঞাতসারে।
২৯-৫৮ : যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আমি অবশ্যই তাহাদের বসবাসের জন্য সুউচ্চ প্রাসোয়াদ দান করিব জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে, কত উত্তম প্রতিদান সেই সকল কর্মশীলদের জন্য,
২৯-৬২ : আল্লাহ্ তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার জন্য ইচ্ছা তাহার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যাহার জন্য ইচ্ছা উহা সীমিত করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।
২৯-৬৩ : যদি তুমি উহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়া কে ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন উহার মৃত্যুর পর ? উহারা অবশ্যই বলিবে, ‘আল্লাহ’। বল, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই।’ কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা অনুধাবন করে না।
২৯-৬৫ : উহারা যখন নৌযানে আরোহণ করে তখন উহারা বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্কে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে ভিড়াইয়া উহাদেরকে উদ্ধার করেন, তখন উহারা শির্কে লিপ্ত হয়,
২৯-৬৭ : উহারা কি দেখে না আমি ‘হারাম’কে নিরাপদ স্থান করিয়াছি, অথচ ইহার চতুষ্পার্শ্বে যেসব মানুষ আছে, তাহাদের উপর হামলা করা হয়, তবে কি উহারা অসত্যেই বিশ্বাস করিবে এবং আল্লাহ্র অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে ?
২৯-৬৮ : যে ব্যক্তি আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁহার নিকট হইতে আগত সত্যকে অস্বীকার করে তাহার অপেক্ষা অধিক জালিম আর কে ? জাহান্নামই কি কাফিরদের আবাস নয় ?