৩০-৮ : উহারা কি নিজেদের অন্তরে ভাবিয়া দেখে না? আল্লাহ্ আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন যথাযথভাবে এবং এক নির্দিষ্ট কালের জন্য। কিন্তু মানুষের মধ্যে অনেকেই তাহাদের প্রতিপালকের সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।
৩০-৯ : উহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না ? তাহা হইলে দেখিত যে, উহাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কিরূপ হইয়াছিল ! শক্তিতে তাহারা ছিল ইহাদের অপেক্ষা প্রবল, তাহারা জমি চাষ করিত, তাহারা উহা আবাদ করিত ইহাদের আবাদ করা অপেক্ষা অধিক। তাহাদের নিকট আসিয়াছিল তাহাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ ; বস্তুত আল্লাহ্ এমন নন যে, উহাদের প্রতি জুলুম করেন, উহারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছিল।
৩০-২১ : আর তাঁহার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রহিয়াছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন তোমাদের সংগিনীদেরকে যাহাতে তোমরা উহাদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করিয়াছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য ইহাতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রহিয়াছে।
৩০-২২ : আর তাঁহার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রহিয়াছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। ইহাতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রহিয়াছে।
৩০-২৩ : আর তাঁহার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রহিয়াছে রাত্রিতে ও দিবাভাগে তোমাদের নিদ্রা এবং তোমাদের অন্বেষণ তাঁহার অনুগ্রহ হইতে। ইহাতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রহিয়াছে শ্রবণকারী সম্প্রদায়ের জন্য।
৩০-২৪ : আর তাঁহার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রহিয়াছে, তিনি তোমাদেরকে প্রদর্শন করেন বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসা সঞ্চারকরূপে এবং আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন ও তদ্দ্বারা ভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করেন উহার মৃত্যুর পর; ইহাতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রহিয়াছে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য।
৩০-২৫ : এবং তাহার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রহিয়াছে যে, তাঁহারই আদেশে আকাশ ও পৃথিবীর স্থিতি থাকে; অতঃপর আল্লাহ্ যখন তোমাদেরকে মৃত্তিকা হইতে উঠিবার জন্য একবার আহ্বান করিবেন তখন তোমরা উঠিয়া আসিবে।
৩০-২৭ : তিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, অতঃপর তিনি ইহাকে সৃষ্টি করিবেন পুনর্বার; ইহা তাঁহার জন্য অতি সহজ। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁহারই; এবং তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
৩০-২৮ : আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করিতেছেন : তোমাদেরকে আমি যে রিযিক দিয়াছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসিগণের কেহ কি তাহাতে অংশীদার ? ফলে তোমরা কি এই ব্যাপারে সমান ? তোমরা কি উহাদেরকে সেইরূপ ভয় কর যেইরূপ তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ভয় কর ? এইভাবেই আমি বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের নিকট নিদর্শনাবলী বিবৃত করি।
৩০-২৯ : বরং সীমালংঘনকারীরা অজ্ঞানতাবশত তাহাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে, সুতরাং আল্লাহ্ যাহাকে পথভ্রষ্ট করিয়াছেন, কে তাহাকে সৎপথে পরিচালিত করিবে? আর তাহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।
৩০-৩০ : তুমি একনিষ্ঠ হইয়া নিজকে দীনে প্রতিষ্ঠিত কর। আল্লাহ্র প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন ; আল্লাহ্র সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নাই। ইহাই সরল দীন ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
৩০-৩৯ : মানুষের ধনে বৃদ্ধি পাইবে বলিয়া তোমরা যে সুদ দিয়া থাক, আল্লাহ্র দৃষ্টিতে তাহা ধন - সম্পদ বৃদ্ধি করে না। কিন্তু আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে যাকাত তোমরা দিয়া থাক তাহাই বৃদ্ধি পায়; উহারাই সমৃদ্ধিশালী।
৩০-৪০ : আল্লাহ্ই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন, অতঃপর তোমাদেরকে রিযিক দিয়াছেন, তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাইবেন ও পরে তোমাদেরকে জীবিত করিবেন। তোমাদের দেব - দেবীগুলির এমন কেহ আছে কি, যে এ সমস্তের কোন কিছু করিতে পারে? উহারা যাহাদেরকে শরীক করে, আল্লাহ্ উহা হইতে পবিত্র, মহান।
৩০-৪১ : মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়াইয়া পড়ে; যাহার ফলে উহাদেরকে উহাদের কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাহাতে উহারা ফিরিয়া আসে।
৩০-৪৬ : তাঁহার নিদর্শনাবলীর একটি যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দিবার জন্য ও তোমাদেরকে তাঁহার অনুগ্রহ আস্বাদন করাইবার জন্য; এবং যাহাতে তাঁহার নির্দেশে নৌযানগুলি বিচরণ করে, যাহাতে তোমরা তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার ও তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
৩০-৪৭ : আমি তো তোমার পূর্বে রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছিলাম তাহাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট। তাহারা উহাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছিল; অতঃপর আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দিয়াছিলাম। মু’মিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।
৩০-৪৮ : আল্লাহ্, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন, ফলে ইহা মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে; অতঃপর তিনি ইহাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়াইয়া দেন; পরে ইহাকে খণ্ড - বিখণ্ড করেন এবং তুমি দেখিতে পাও উহা হইতে নির্গত হয় বারিধারা; অতঃপর যখন তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহাদের নিকট ইচ্ছা উহা পৌঁছাইয়া দেন; তখন উহারা হয় হর্ষোৎফুল্ল,
৩০-৫০ : আল্লাহ্র অনুগ্রহের ফল সম্বন্ধে চিন্তা কর, কিভাবে তিনি ভূমিকে জীবিত করেন উহার মৃত্যুর পর। এইভাবেই আল্লাহ্ মৃতকে জীবিত করেন, কারণ তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
৩০-৫৩ : আর তুমি অন্ধকেও পথে আনিতে পারিবে না উহাদের পথভ্রষ্টতা হইতে। যাহারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে শুধু তাহাদেরকেই তুমি শোনাইতে পারিবে, কারণ তাহারা আত্মসমর্পণকারী।
৩০-৫৪ : আল্লাহ্, তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন দুর্বল অবস্থায়, দুর্বলতার পর তিনি দেন শক্তি ; শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
৩০-৫৬ : কিন্তু যাহাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হইয়াছে তাহারা বলিবে, ‘তোমরা তো আল্লাহ্র বিধানে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করিয়াছ। ইহাই তো পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা জানিতে না।’
৩০-৫৮ : আমি তো মানুষের জন্য এই কুরআনে সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত দিয়াছি। তুমি যদি উহাদের নিকট কোন নিদর্শন উপস্থিত কর, কাফিররা অবশ্যই বলিবে, ‘তোমরা তো মিথ্যাশ্রয়ী।’