৪৭-২ : যাহারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে বিশ্বাস করে, আর উহাই তাহাদের প্রতিপালক হইতে প্রেরিত সত্য, তিনি তাহাদের মন্দ কর্মগুলি বিদূরিত করিবেন এবং তাহাদের অবস্থা ভাল করিবেন।
৪৭-৩ : ইহা এইজন্য যে, যাহারা কুফরী করে তাহারা মিথ্যার অনুসরণ করে এবং যাহারা ঈমান আনে তাহারা তাহাদের প্রতিপালক - প্রেরিত সত্যের অনুসরণ করে। এইভাবে আল্লাহ্ মানুষের জন্য তাহাদের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন।
৪৭-৪ : অতএব যখন তোমরা কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধে মুকাবিলা কর তখন তাহাদের গর্দানে আঘাত কর, পরিশেষে যখন তোমরা উহাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত করিবে তখন উহাদেরকে কষিয়া বাঁধিবে ; অতঃপর হয় অনুকম্পা, নয় মুক্তিপণ। তোমরা জিহাদ চালাইবে যতক্ষণ না যুদ্ধ ইহার অস্ত্র নামাইয়া ফেলে। ইহাই বিধান। ইহা এইজন্য যে, আল্লাহ্ ইচ্ছা করিলে উহাদেরকে শাস্তি দিতে পারিতেন, কিন্তু তিনি চাহেন তোমাদের একজনকে অপরের দ্বারা পরীক্ষা করিতে। যাহারা আল্লাহ্র পথে নিহত হয় তিনি কখনও তাহাদের র্কম বিনষ্ট হইতে দেন না।
৪৭-১০ : উহারা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে নাই এবং দেখে নাই উহাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হইয়াছে? আল্লাহ্ উহাদেরকে ধ্বংস করিয়াছেন এবং কাফিরদের জন্য রহিয়াছে অনুরূপ পরিণাম।
৪৭-১২ : যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত; কিন্তু যাহারা কুফরী করে উহারা ভোগ - বিলাসে মত্ত থাকে এবং জন্তু - জানোয়ারের মত উদর পূর্তি করে; আর জাহান্নামই উহাদের নিবাস।
৪৭-১৩ : উহারা তোমার যে জনপদ হইতে তোমাকে বিতাড়িত করিয়াছে তাহা অপেক্ষা অতি শক্তিশালী কত জনপদ ছিল; আমি উহাদেরকে ধ্বংস করিয়াছি এবং উহাদের সাহায্যকারী কেহ ছিল না।
৪৭-১৪ : যে ব্যক্তি তাহার প্রতিপালক - প্রেরিত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি তাহার ন্যায়, যাহার নিকট নিজের মন্দ কর্মগুলি শোভন প্রতীয়মান হয় এবং যাহারা নিজ খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে?
৪৭-১৫ : মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহার দৃষ্টান্ত : উহাতে আছে নির্মল পানির নহর, আছে দুধের নহর যাহার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহর, আছে পরিশোধিত মধুর নহর এবং সেখানে উহাদের জন্য থাকিবে বিবিধ ফলমূল আর তাহাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে ক্ষমা। মুত্তাকীরা কি তাহাদের ন্যায়, যাহারা জাহান্নামে স্থায়ী হইবে এবং যাহাদেরকে পান করিতে দেওয়া হইবে ফুটন্ত পানি যাহা উহাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন - বিচ্ছিন্ন করিয়া দিবে?
৪৭-১৬ : উহাদের মধ্যে কতক তোমার কথা শ্রবণ করে, অতঃপর তোমার নিকট হইতে বাহির হইয়া যাহারা জ্ঞানপ্রাপ্ত তাহাদেরকে বলে, ‘এইমাত্র সে কী বলিল?’ ইহাদের অন্তর আল্লাহ্ মোহর করিয়া দিয়াছেন এবং উহারা নিজেদের খেয়াল - খুশিরই অনুসরণ করে।
৪৭-১৯ : সুতরাং জানিয়া রাখ, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার এবং মু’মিন নর - নারীদের ত্রুটির জন্য। আল্লাহ্ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন।
৪৭-২০ : মু’মিনরা বলে, ‘একটি সূরা অবতীর্ণ হয় না কেন?’ অতঃপর যদি দ্ব্যর্থহীন কোন সূরা অবতীর্ণ হয় এবং উহাতে যুদ্ধের কোন নির্দেশ থাকে তুমি দেখিবে যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা মৃত্যুভয়ে বিহ্বল মানুষের মত তোমার দিকে তাকাইতেছে। শোচনীয় পরিণাম উহাদের।
৪৭-২১ : আনুগত্য ও ন্যায়সংগত বাক্য উহাদের জন্য উত্তম ছিল; সুতরাং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হইল, যদি উহারা আল্লাহ্র প্রতি পদত্ত অঙ্গীকার পূরণ করিত, তবে তাহাদের জন্য ইহা অবশ্যই মঙ্গলজনক হইত।
৪৭-২৮ : ইহা এইজন্য যে, উহারা তাহার অনুসরণ করে, যাহা আল্লাহ্র অসন্তোষ জন্মায় এবং তাঁহার সন্তুষ্টিকে অপ্রিয় গণ্য করে ; তিনি ইহাদের কর্ম নিষ্ফল করিয়া দেন।
৪৭-৩২ : যাহারা কুফরী করে এবং মানুষকে আল্লাহ্র পথ হইতে নিবৃত্ত করে এবং নিজেদের নিকট পথের দিশা ব্যক্ত হইবার পর রাসূলের বিরোধিতা করে, উহারা আল্লাহ্র কোনই ক্ষতি করিতে পারিবে না। তিনি তো তাহাদের কর্ম ব্যর্থ করিবেন।
৪৭-৩৬ : পার্থিব জীবন তো কেবল ক্রীড়া - কৌতুক, যদি তোমরা ঈমান আন, তাকওয়া অবলম্বন কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে তোমাদের পুরষ্কার দিবেন এবং তিনি তোমাদের ধন - সম্পদ চান না।
৪৭-৩৮ : দেখ, তোমরাই তো তাহারা যাহাদেরকে আল্লাহ্র পথে ব্যয় করিতে বলা হইতেছে অথচ তোমাদের অনেকে কৃপণতা করিতেছে। যাহারা কার্পণ্য করে তাহারা তো কার্পণ্য করে নিজেদেরই প্রতি। আল্লাহ্ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। যদি তোমরা বিমুখ হও, তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করিবেন; তাহারা তোমাদের মত হইবে না।