৪৮-৫ : ইহা এইজন্য যে, তিনি মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং তিনি তাহাদের পাপ মোচন করিবেন ; ইহাই আল্লাহ্র দৃষ্টিতে মহাসাফল্য।
৪৮-৬ : আর তিনি মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী, মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারী যাহারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে মন্দ ধারণা পোষণ করে তাহাদেরকে শাস্তি দিবেন। অমঙ্গল চক্র উহাদের জন্য, আল্লাহ্ উহাদের প্রতি রুষ্ট হইয়াছেন এবং উহাদেরকে লা‘নত করিয়াছেন এবং উহাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত রাখিয়াছেন, উহা কত নিকৃষ্ট আবাস!
৪৮-৯ : যাহাতে তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং রাসূলকে শক্তি যোগাও ও তাহাকে সম্মান কর ; সকাল - সন্ধ্যায় আল্লাহ্র পবিত্রতা ও মহিমা ঘােষণা কর।
৪৮-১০ : যাহারা তোমার হাতে বায়‘আত করে তাহারা তো আল্লাহ্রই হাতে বায়‘আত করে। আল্লাহ্র হাত তাহাদের হাতের উপর। অতঃপর যে উহা ভঙ্গ করে, উহা ভঙ্গ করিবার পরিণাম তাহারই এবং যে আল্লাহ্র সঙ্গে অঙ্গীকার র্পূণ করে তিনি অবশ্যই তাহাকে মহাপুরস্কার দিবেন।
৪৮-১২ : না, তোমরা ধারণা করিয়াছিলে যে, রাসূল ও মু’মিনগণ তাহাদের পরিবার - পরিজনের নিকট কখনই ফিরিয়া আসিতে পারিবে না এবং এই ধারণা তোমাদের অন্তরে প্রীতিকর মনে হইয়াছিল; তোমরা মন্দ ধারণা করিয়াছিলে, তোমরা তো ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায় !
৪৮-১৬ : যেসব মরুবাসী পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহাদেরক বল, ‘তোমরা আহুত হইবে এক প্রবল - পরাক্রান্ত জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে; তোমরা উহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে যতক্ষণ না উহারা আত্মসমর্পণ করে করে। তোমরা এই নির্দেশ পালন করিলে আল্লাহ্ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করিবেন। আর তোমরা যদি পূর্বানুরূপ পৃষ্ঠা প্রদর্শন কর, তিনি তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন।
৪৮-১৭ : অন্ধের জন্য কোন অপরাধ নাই, খঞ্জের জন্য কোন অপরাধ নাই এবং পীড়িতের জন্য কোন অপরাধ নাই; এবং যে কেহ আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করিবে আল্লাহ্ তাহাকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত; কিন্তু যে ব্যক্তি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিবে তিনি তাহাকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন।
৪৮-১৮ : আল্লাহ্ তো মু’মিনগণের উপর সন্তুষ্ট হইলেন যখন তাহারা বৃক্ষতলে তোমার নিকট বায়‘আত গ্রহণ করিল, তাহাদের অন্তরে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন; তাহাদেরকে তিনি দান করিলেন প্রশান্তি এবং তাহাদেরকে পুরস্কার দিলেন আসন্ন বিজয়
৪৮-২০ : আল্লাহ্ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদের হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন যেন ইহা হয় মু’মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ্ তোমাদেরকে পরিচালিত করেন সরল পথে;
৪৮-২৫ : উহারাই তো কুফরী করিয়াছিল এবং নিবৃত্ত করিয়াছিল তোমাদেরকে মসজিদুল - হারাম হইতে ও বাধা দিয়াছিল কুরবানীর জন্য আবদ্ধ পশুগুলিকে যথাস্থানে পৌঁছিতে। তোমাদেরকে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হইত যদি না থাকিত এমন কতক মু’মিন নর ও নারী যাহাদেরকে তোমরা জান না, তোমরা তাহাদেরকে পদদলিত করিতে অজ্ঞাতসারে, ফলে তাহাদের কারণে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইতে। যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় নাই এইজন্য যে, তিনি যাহাকে ইচ্ছা নিজ অনুগ্রহ দান করিবেন। যদি উহারা পৃথক হইত, আমি উহাদের মধ্যে কাফিরদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিতাম।
৪৮-২৬ : যখন কাফিররা তাহাদের অন্তরে পোষণ করিত গোত্রীয় অহমিকা - অজ্ঞতার যুগের অহমিকা, তখন আল্লাহ্ তাঁহার রাসূল ও মু’মিনদেরকে স্বীয় প্রশান্তি দান করিলেন ; আর তাহাদেরকে তাক্ওয়ার বাক্যে সুদৃঢ় করিলেন, এবং তাহারাই ছিল ইহার অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখেন।
৪৮-২৯ : মুহাম্মদ আল্লাহ্র রাসূল ; তাঁহার সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ; আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাহাদেরকে রুকূ‘ ও সিজ্দায় অবনত দেখিবে। তাহাদের লক্ষণ তাহাদের মুখমণ্ডলে সিজ্দার প্রভাবে পরিস্ফুটিত থাকিবে ; তাওরাতে তাহাদের বর্ণনা এইরূপ এবং ইঞ্জীলেও তাহাদের বর্ণনা এইরূপই। তাহাদের দৃষ্টান্ত একটি চারাগাছ, যাহা হইতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কাণ্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যাহা চাষীর জন্য আনন্দদায়ক। এইভাবে আল্লাহ্ মু’মিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাহাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।